
ডেক্স রিপোর্ট ঢাকা। Katha24.com
দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি মোঃ মোখলেছুর রহমান
মরিচের প্রায় ৮০ শতাংশ নষ্ট হয়ে যাওয়ার ফলে এবং গুণগত মানের অবমূল্যায়নের কারণে চাষিরা অর্ধেক দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। এর ফলে উপজেলার প্রায় ৪,৫০০ মরিচচাষি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ ক্ষতির পরিমাণ প্রায় এক কোটি টাকার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে।
উপজেলা কৃষি বিভাগের পরিসংখ্যান অনুসারে, দেওয়ানগঞ্জে মোট কৃষক পরিবার রয়েছে ৫২,৮৬১টি। এর মধ্যে ক্ষুদ্র, প্রান্তিক ও ভূমিহীন কৃষকের সংখ্যা বেশি। চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৪৫০ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও চাষ হয়েছে ৪৬০ হেক্টরে। ফলন শুরুতে সন্তোষজনক ছিল বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
কৃষকেরা জানান, সাধারণত আশ্বিন-কার্তিক মাসে মরিচের বীজ বপন করা হয় এবং ফাল্গুন-চৈত্রে ফল সংগ্রহ করা হয়। প্রতি বিঘা জমিতে ৩৫ থেকে ৪৫ হাজার টাকা ব্যয়ে ১০ থেকে ১২ মণ মরিচ উৎপাদন সম্ভব। বাজারে ভালো মানের মরিচ প্রতি মণ ১২ থেকে ১৪ হাজার টাকায় বিক্রি হলেও, এবারের আবহাওয়া কারণে বড় অংশের মরিচের রং নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে এসব মরিচ ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি করতে হচ্ছে।
মাইছানির চর এলাকার চাষি আবুল হোসেন বলেন, মরিচ চাষে খরচ ও পরিশ্রম বেশি হলেও, ভালো ফলন হলে লাভ হয়। কিন্তু এ বছর মরিচ শুকানোর সময় বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।
ফারাজীপাড়া গ্রামের চাষি আনিছুর রহমান জানান, তিন বিঘা জমিতে মরিচ চাষে তাঁর প্রায় এক লাখ ২৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ফলন ভালো হলেও প্রায় ৪০ শতাংশ মরিচের গুণগত মান নষ্ট হওয়ায় আশানুরূপ লাভ হচ্ছে না।
পোল্যাকান্দি এলাকার কৃষক আজিজুর রহমান বলেন, শেষ সময়ে আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাবে মরিচের মান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাজারে এসব মরিচের চাহিদা কম থাকায় কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রতন মিয়া বলেন, চলতি বছর মরিচের উৎপাদন ভালো হলেও, পাকা মরিচ শুকানোর সময় প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে প্রায় ৪০ শতাংশ মরিচের গুণগত মান নষ্ট হয়েছে। এর ফলে কৃষকদের অর্ধেক দামে মরিচ বিক্রি করতে হচ্ছে, যা উপজেলায় প্রায় এক কোটি টাকার ক্ষতির কারণ হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য প্রণোদনা ও সহায়তার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
মন্তব্য করুন
সকল মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য আসেনি। প্রথম মন্তব্যটি করুন।